জীবনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

আব্দুল কাদের মোল্লার পরিচিতি

আব্দুল কাদের মোল্লা
সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

সামাজিক নেতা হিসাবে আব্দুল কাদের মোল্লা একটি পরিচিত নাম। তার জন্ম ১৯৪৮ সালে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার জরিপারডঙ্গী গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন। ধার্মিক একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। বড় হন তার পরিবার একটি । তার গ্রামের জরিপারডঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েই তার শিক্ষা জীবনের শুরু। বরাবরই তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র। তিনি যথাক্রমে ১৯৫৯ ও ১৯৬১ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বৃত্তি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে আমিরাবাদ ফজলুল হক ইন্সিটিউট থেকে প্রথম শ্রেণীতে মাধ্যমিক পরিক্ষায় কৃতকার্য হন।

এরপর তিনি একই জেলার রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। কৃতিত্বের সাথে ১৯৬৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষায় উত্তীর্ন হন তিনি। ১৯৬৮ সালে তিনি একই কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন। কিন্তু প্রবল আর্থিক সংকটের কারনে এরপর তাকে শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করতে হয়। পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া হয়নি তখন আর। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মুক্তিযুদ্ধের কারনে ১৯৭১ সালে তার মাস্টার্স পরীক্ষা দেয়া হয়ে ওঠেনাই। ১৯৭৫ সালে তিনি সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষা প্রশাসনের ডিপ্লোমায় অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে ১৯৭৭ সালে তিনি শিক্ষা প্রশাসন থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। এখানেও তিনি প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হন। জনাব মোল্লা তার ছাত্র জীবন থেকেই শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঢাকার বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন।

তার এম,এড পরীক্ষার রেজাল্টের পরে তিনি বাংলাদেশ রাইফেলস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। পরে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে সংস্কৃতি কর্মকর্তা হিসাবে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে রিসার্স স্কলার হিসাবে বাংলাদেশ ইসলামী সেন্টারে যোগ দেন। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হিসাবে ছিলেন। ১৯৮১ সালে জনাব মোল্লা বিখ্যাত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে যুক্ত হন। তখন থেকেই তিনি সাংবাদিকতার সাথে জড়িত রয়েছেন।

জনাব আব্দুল কাদের মোল্লার রয়েছে সংগ্রামী রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যায়নকালেই তিনি কম্যূনিজমের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং কম্যূনিষ্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রইউনিয়নে যোগ দেন। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকেন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে তিনি বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ মাওলানা মওদূদী লিখিত তাফহীমুল কুরআনের সাথে পরিচিত হন। আগ্রহের সাথে তিনি এ গ্রন্থ পড়তে থাকেন।

তাফহীমুল কুরআনের হৃদয়স্পর্শী ছোঁয়ায় তিনি ইসলামের প্রতি প্রবল আকর্ষীত হন এবং ১৯৬৬ সালে তৎকালীন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্বপাকিস্তান শাখায় যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে তিনি এ সংগঠনের সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী ছাত্রসংঘের শহিদুল্লাহ হল শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি ছাত্রসংঘের ঢাকা বিশব্বিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। অতঃপর তার উপর ঢাকা নগরী ছাত্রসংঘের সেক্রেটারীর দায়িত্ব অর্পিত হয়। একই সাথে তিনি কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন।

তার বর্নীল ছাত্রজীবন শেষে ১৯৭৭ সালের মে মাসে তিনি বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে যোগ দেন এবং ১৯৭৮ সালের নভেম্বর মাসে রুকন শপথ নেন। অতঃপর তাকে প্রবীণ বর্ষীয়ান নেতা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ব্যাক্তিগত সেক্রেটারি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি জামায়াত ঢাকা মহানগরীর শূরা সদস্য ও কর্মপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। অল্পদিনের ব্যাবধানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশ-এ-শূরার সদস্য হন। ১৯৯২ সালে তাকে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগরীর নায়েব-এ-আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৫ সালে জনাব মোল্লা জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর আমীর নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রিয় কর্মপরিষদের সদস্য হন। ১৯৯১ সালে তাকে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং উক্ত দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করতে থাকেন। ২০০০ সালে তাকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব দেয়া হয়। উক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে তিনি চার দলীয় জোটের লিয়াজো কমিটির গুরুত্বপূর্ন সদস্য হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।

জনাব মোল্লাকে বিভিন্ন মেয়াদে চার চারবার জেলে যেতে হয়। আইয়ুব সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের দায়ে ১৯৬৪ সালে প্রথমবারের মত তিনি গ্রেপ্তার হন। জেলে যেতে হয়। বিনা উস্কানীতে ১৯৭২ সালে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। কিন্তু স্থানীয় জনতার বিক্ষোভের মুখে পুলিশ তাকে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন কাস্টোডী থেকেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। জেনারেল এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কারনে আব্দুল কাদের মোল্লাকে আবারও আটক করে রাখা হয়। পরে উচ্চ আদালত তার এ আটকাদেশকে আবৈধ ঘোষণা করলে চার মাশ পরে তিনি মুক্ত হন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করায় তৎকালীন বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তাকে আটক করে।

জনাব মোল্লা একজন উত্তম সমাজসেবক। ১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে তিনি পরপর দুই বছর ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (ডি ইউ জে) এর সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

তিনি সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংস্থার সাথে যুক্ত । এদের মধ্যে বাদশাহ ফয়সাল ইন্সটিটিউট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোসাইটি ও এর স্কুল ম্যানেজিং কমিটি, সদরপুর মাদরাসা ও এতিমখানা, ফরিদপুর জেলার হাজিডাঙ্গি খাদেমুল ইসলাম মাদরাসা ও এতিমখানা, সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী একাডেমী অন্যতম। তিনি এসব মাদরাসা ও এতিমখানার উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি পরপর তিন মেয়াদের জন্য বাদশাহ ফয়সাল ইন্সটিটিউট ও এর ট্রাস্টের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ছিলেন। জনাব মোল্লা দেশ বিদেশের সমসাময়িক বিষয়ের উপর কলাম ও প্রবন্ধ লিখে আসছেন। ইসলামের বিভিন্ন দিকের উপরো তার লেখা পাওয়া যায়। তার সুচিন্তিত কলাম ও প্রবন্ধ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বস্তুবাদ, কম্যূনিজমের উপরে তার বৈজ্ঞানিক সমালোচনা শিক্ষিত মহলের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

জনাব মোল্লা ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছেন। এরই মধ্যে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জাপান, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান ও ভারতে সফর করেছেন।

জনাব মোল্লা বেগম সানোয়ার জাহানের সাথে ১৯৭৭ সালের ৮ অক্টোবর তারিখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দুই পুত্র ও চার কন্যার সুখি সংসার তাদের। সব সন্তানই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছেন। সবাই ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত। বেগম সানোয়ার জাহান জামায়াতের রুকন ।

জনাব মোল্লা নিয়মিত কুরআন পড়তে ও কুরআন তেলাওয়াত শুনতে পছন্দ করেন। তিনি সাংগঠনিক ব্যাস্তময় সময় থেকে তিনি বিভিন্ন বিখ্যাত লেখক, কবি- যেমন আল্লামা ইকবাল, সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী, সাইয়্যেদ কুতুব, মোহাম্মাদ কুতুব, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমেদ সহ বিখ্যাত লেখকদের লেখা পড়ার জন্য নিয়মিত সময় বেড় করেন।

এই জাতীয় দেশ বরেন্য সংগঠক ও শিক্ষাবিদ আজ আওয়ামী দুশাসনের স্বীকার হয়ে মিথ্যা অপবাদে জেল খানার মধ্যে আটক রয়েছেন। দেশবাসী তার সম্মানজনক মুক্তির জন্য অপেক্ষায় আছেন।

আজ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তার বিরুদ্ধের বিচারের রায় ঘোষনা চলছে। মহান আল্লাহ-র কাছে অগণিত মানুষ আজ তার জন্য দোয়া করছেন। আল্লাহ যেন তাকে খুব সম্মানজনকভাবে মুক্তি দিয়ে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেন। আমীন। 
আব্দুল কাদের মোল্লা
সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী


সামাজিক নেতা হিসাবে আব্দুল কাদের মোল্লা একটি পরিচিত নাম। তার জন্ম ১৯৪৮ সালে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার জরিপারডঙ্গী গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন। ধার্মিক একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। বড় হন তার পরিবার একটি । তার গ্রামের জরিপারডঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েই তার শিক্ষা জীবনের শুরু। বরাবরই তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র। তিনি যথাক্রমে ১৯৫৯ ও ১৯৬১ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বৃত্তি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে আমিরাবাদ ফজলুল হক ইন্সিটিউট থেকে প্রথম শ্রেণীতে মাধ্যমিক পরিক্ষায় কৃতকার্য হন।

বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১২

ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের জন্য অনুপম আদর্শ শহীদ আব্দুল মালেক

ডা. মোঃ ফখরুদ্দিন মানিকঃ
শহীদ আব্দুল মালেক ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। যার আলো ঠিকরে পড়েছে ইসলামী আন্দোলনের সকল কর্মীদের অন্তরে। ১৫ আগস্ট ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন। ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্র মৈত্রীর ধর্মহীন নৈতিকতা বিরোধী শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইসলামী শিক্ষার যৌক্তিকতা উপস্থাপন করতে গিয়ে ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নির্মম আঘাতের শিকার হন তিনি। ১৫ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন।  সমাপ্তি ঘটলো একটি সম্ভাবনাময় নেতৃত্বের। সেই সাথে সারা দেশের ইসলাম প্রিয় তরুণদের সামনে উজ্জীবিত হল এক নতুন জীবন।


১৯৪৭ সালে বগুড়া শহরের অদূরবর্তী থানা ধুনটের খোকসা বাড়িতে মৌলভী আহম্মদ আলী সাহেবের ৫ ছেলের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান আব্দুল মালেক। খোকসা বাড়ির প্রাইমারি স্কুল থেকে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু। প্রাইমারি স্কুল শেষে গোসাইবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় তারপর অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি নিয়ে বগুড়া জেলা স্কুলে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন। বগুড়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১৬তম স্থান নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন শেষ করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪র্থ স্থানসহ এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণ রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন এবং ডিপার্টমেন্টের মেধাবী ছাত্র হিসেবে ১ম স্স্থান অধিকার করেন।

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১১

অধ্যাপক গোলাম আযমঃএক জীবন্ত কিংবদন্তীর নাম



 বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এমন একটি ব-দ্বীপ যার শরীরে বয়ে চলে হাজারও নদী। নদী পাড় ভাঙে, ভাঙে গ্রামের পর গ্রাম; যেন ভাঙা-গড়াই এর নিত্য খেলা। ঋতুর খেলাও ঠিক তেমনই আসতে না আসতেই পরিবর্তন হয়। স্থিরতা নেই আবহাওয়ারও। এর সাথে পাল্লা দিয়ে আসে ঝড়-টর্নেডো,ছিন্ন-ভিন্ন করে দেয় আবাসস্থল। এ দেশে এভাবেই চলে প্রকৃতির তা-বলীলা। এর সাথে সংগ্রাম করেই মানুষ বেঁচে থাকে।

বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০১১

নূরনবী মোস্তফা (সা.)

কালের নিরন্তর পরিক্রমায় রাসূলের জীবন এবং কর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়া ক্রমশই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে তাঁর আদর্শের বাস্তবায়ন। অত্যন্ত আনন্দের কথা যে , বিশ্বব্যাপী এখন তাঁর জীবনী ও ধর্ম নিয়ে চর্চার একটি ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার ফলে ইসলাম-বিদ্বেষীরাও তাদের সকল অপকৌশল প্রয়োগ করে ইসলাম ও ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বিকৃতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এরি পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর সর্বশেষ দূতের সঠিক জীবনী সম্পর্কে সবার ধারণা থাকা জরুরী বলে আমরা মনে করি। সেই বোধ ও উপলব্ধি থেকেই নতুন এই আসরের আয়োজন। এ আসরে আপনাদের নিয়মিত উপস্থিতি পাবো-এই প্রত্যাশা রইলো।
বিশ্বের বুকে বিদ্যমান অসাধারণ সকল সোন্দর্যকে তুলে ধরা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তারচেয়েও কঠিন কাজ হলো এমন কোনো মহান ব্যক্তিত্বের জীবনচিত্র আঁকা , যাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী হিসেবে। এরকম কোনো ব্যক্তিত্বের জীবনচিত্র যিনি আঁকতে চান , তিনি আসলে অসীম সমুদ্রকে ছোট্ট একটি আয়নার মাঝেই প্রতীকায়িত করতে চান। নতুন এই আসরে আমরা আপনাদেরকে দীর্ঘরাত্রির পর সুপ্রভাতের ইতিহাস সৃষ্টিকারী বিস্ময়কর এমন এক মহান ব্যক্তিত্বের কথা শোনাবো,যিনি অসংখ্য মানুষকে তাঁর হেদায়েতের নৌকায় চড়িয়েছেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হেদায়েতের ঐ নৌকা ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ তরঙ্গের মুখে বারবার পড়েছে , তারপরও আজ পর্যন্ত নৌকাটি কালের সাগরে ভাসমান রয়েছে , ডোবে নি। আজো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌র পতাকা পত্‌পত্‌ করে উড়ছে। আজো মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা)'র সম্মান ও মর্যাদা সুরক্ষিত এবং তাঁর হেদায়াত সমানভাবে গ্রাহ্য।

বুধবার, ১১ মে, ২০১১

নবী-নন্দিনী ফাতেমা (সাঃ) : মানবজাতির গৌরব

পৃথিবীতে এমন কয়েকজন অসাধারণ মানুষ জন্ম নিয়েছেন যাঁরা মানবজাতির চিরন্তন গৌরব, যাঁরা আদর্শ মানুষের প্রতীক তথা মানবতা ও মনুষ্যত্বের পূর্ণতার মডেল। এ ধরনের মানুষ পৃথিবীতে জন্ম না নিলে আদর্শের দিক থেকে মানবজাতির মধ্যে বিরাজ করতো ব্যাপক অপূর্ণতা এবং আদর্শিক শূণ্যতা ও আধ্যাত্মিক অপূর্ণতার অশেষ ঘূর্ণাবর্তে মানবজাতি হতো বিভ্রান্ত, ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নতির সোপান থেকে চিরকালের জন্য থাকতো পিছিয়ে। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে তিনি এমন কয়েকজন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন যাঁরা মানুষের জন্য সব ধরনের পূর্ণতা ও উন্নতির আদর্শ। নবী-নন্দিনী খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জাহরা (সাঃ) সেইসব অসাধারণ মানুষেরই একজন। এটা স্বাভাবিক যে এ ধরনের মানুষের অকাল বিদায় বা বিয়োগ-বিধুর শাহাদত শোকের সাহারায় সৃষ্টি করে অনন্ত মাতম। শোকের এই অনন্ত মাতমে একদিকে যেমন তাঁদের প্রতি খোদাভীরু মানুষের শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসা বিধৃত হয়, তেমনি শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঐসব মহান ব্যক্তিত্বের আদর্শ এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও সুদৃঢ় করা সম্ভব হয়।

রবিবার, ১ মে, ২০১১

রেনেসাঁর কবি ইকবাল

পাঠক !আপনারা পাকিস্তানের বিখ্যাত কবি ইকবাল লাহোরীর নাম নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন। আল্লামা ইকবাল উর্দু,ফার্সি বিচিত্র ভাষায় কবিতা লিখেছেন। তো এ আসরে আমরা কবি ইকবাল,তাঁর কবিতা বা লেখালেখি এবং তাঁর দর্শনের সাথে আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। সেইসাথে ইকবাল এবং ইরানের ইসলামী দর্শন,ইকবাল এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রভৃতি বিষয়েও কথা বলার চেষ্টা করবো। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
এখনো ঘাসের পরে দেখি না বন্ধু কোনো
আমিই বসন্তের প্রথম পুষ্প যেন
পানপাত্রে তাকালে দেখি শুধু নিজেকেই
এ ভাবনায় যদি অন্য কাউকে পেয়ে যাই
জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে যে তুলি নির্দ্ধিধায়
লিখেছে সে এক বার্তা এ জীবনের রঙীন পাতায়

কবি ইকবাল লাহোরী ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ৯ ই নভেম্বরে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণ করেন। ইরানের বিখ্যাত গবেষক প্রফেসর ফারিদানীর মতে বহু যুগ পরে ইকবাল ভারতীয় মুসলমানদেরকে অলস-নিদ্রা থেকে জাগাতে সক্ষম হয়েছেন। ইকবালের বাবা নূর মোহাম্মাদ ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি জ্ঞানী-গুণীদের আসরে বা আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে ভালোবাসতেন। তাঁর কর্মক্ষেত্র একটা শিক্ষাকেন্দ্রে পরিনত হয়েছিল। ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি যাদের অনুরাগ ছিল তাদের অনেকেই সেখানে সমবেত হতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করতেন। তিনি পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং কোরআন তেলাওয়াতকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের উপায় বলে মনে করতেন। তিনি তাঁর ছেলে ইকবালকে উপদেশ দিয়ে বলতেন যে,কোরআন এমনভাবে পড়ো যেন আল্লাহর সাথে কথা বলছো।

বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০১১

অসাধারণ মানুষ ইমাম আলী (আ.)

বিশ্বের বুকে আল্লাহর দেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ আল-কোরআনের বসন্তকাল মাহে রমযানের কল্যাণপূর্ণ দিনগুলো আমরা অতিক্রম করছি এখন ৷ এই দিনগুলো যে কতো বরকতময়,কতো পূণ্যময় তা আমরা কোরআনের ভাষ্য থেকেই জানতে পারি ৷ নবী করীম ( সা ) থেকে উদ্ধৃত যে এ মাসের সর্বোত্তম দোয়া হচেছ এসতেগফার ৷ এসতেগফার মানে হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা,দোয়া করা ৷ কেননা আন্তরিকতার সাথে কায়-মনোবাক্যে যদি আল্লাহর দরবারে তওবা এসতেগফার করা হয় তাহলে তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়৷ সারা বছর আমরা যেসব অসৎ গুণাবলী বা অন্যায়ের চর্চা করি , সেগুলো থেকে মুক্তি পাবার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে এই মাসে ৷ এমাসের মধ্যে রয়েছে সহস্র মাসের থেকেও উত্তম এক রাত ৷ লাইলাতুল ক্বদর ৷ মহিমান্বিত রাত ৷ এই রাতের এতো মহিমা কিংবা এই মাসের এতো মর্যাদার কারণ হলো পবিত্র কোরআন নাযিল হয়েছিল এই মাসেই লাইলাতুল কদরে৷ এ রকম একটি মাসের সাক্ষাৎ লাভ নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের ৷ কিন্তু যারা এ মাসকে পেয়েও নিজেদের গুনাহ-খাতা থেকে মুক্তি লাভে সমর্থ হলো না,তারা নিশ্চিতই দুর্ভাগা ৷ আল্লাহ আমাদেরকে সৌভাগ্যবানদের কাতারে শামিল করুন ৷

সোমবার, ২১ মার্চ, ২০১১

ওমর খৈয়াম : বহুমুখী প্রতিভার বরপুত্র

আবার যখন মিলবে হেথায় শরাব সাকির আঞ্জামে,
হে বন্ধুদল, একটি ফোটা অশ্রু ফেলো মোর নামে।
চক্রাকারে পাত্র ঘুরে আসবে যখন সাকীর পাশ,
পেয়ালা একটি উল্টে দিয়ো স্মরণ করে খৈয়ামে।
বহুমুখী প্রতিভার দৃষ্টান্ত দিতে বলা হলে বিশ্বসাহিত্য কিংবা ইতিহাসে যাদের নাম উপেক্ষা করা কঠিন ওমর খৈয়াম তাদের মধ্যে অন্যতম ও শীর্ষস্থানীয়। গত ১৮ ই মে ছিল বিশ্ববিশ্রুত ইরানী মনীষী, বিজ্ঞানী ও কবি হাকিম ওমর খৈয়ামের প্রতি সম্মাননা প্রদর্শনের দিবস। এ উপলক্ষ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি সম্মেলন এবং কবির জন্মস্থান নিশাপুরেও পালিত হয়েছে বিশেষ উৎসব। এসব অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা ওমর খৈয়ামের অবদান, চিন্তাধারা, কবিতা এবং তার জীবনের কিছু গুরুত্বপুর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাই এ উপলক্ষ্যে আমরাও বিশ্ববরেন্য এই মনীষীর প্রতি সম্মাননা জানানোর উদ্দেশ্যে তার পরিচিতির নানা দিক, অবদান ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করব।