দারসুল কোরআন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দারসুল কোরআন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১০

ঈমানের পরিক্ষা-سُوۡرَةُ العَنکبوت

الٓمٓ (١) أَحَسِبَ ٱلنَّاسُ أَن يُتۡرَكُوٓاْ أَن يَقُولُوٓاْ ءَامَنَّا وَهُمۡ لَا يُفۡتَنُونَ (٢) وَلَقَدۡ فَتَنَّا ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ‌ۖ فَلَيَعۡلَمَنَّ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ صَدَقُواْ وَلَيَعۡلَمَنَّ ٱلۡكَـٰذِبِينَ (٣) أَمۡ حَسِبَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ أَن يَسۡبِقُونَا‌ۚ سَآءَ مَا يَحۡكُمُونَ (٤) مَن كَانَ يَرۡجُواْ لِقَآءَ ٱللَّهِ فَإِنَّ أَجَلَ ٱللَّهِ لَأَتٍ۬‌ۚ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ (٥) وَمَن جَـٰهَدَ فَإِنَّمَا يُجَـٰهِدُ لِنَفۡسِهِۦۤ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَغَنِىٌّ عَنِ ٱلۡعَـٰلَمِينَ (٦) وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنۡهُمۡ سَيِّـَٔاتِهِمۡ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَحۡسَنَ ٱلَّذِى كَانُواْ يَعۡمَلُونَ (٧) وَوَصَّيۡنَا ٱلۡإِنسَـٰنَ بِوَٲلِدَيۡهِ حُسۡنً۬ا‌ۖ وَإِن جَـٰهَدَاكَ لِتُشۡرِكَ بِى مَا لَيۡسَ لَكَ بِهِۦ عِلۡمٌ۬ فَلَا تُطِعۡهُمَآ‌ۚ إِلَىَّ مَرۡجِعُكُمۡ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ (٨) وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَنُدۡخِلَنَّهُمۡ فِى ٱلصَّـٰلِحِينَ (٩) وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ فَإِذَآ أُوذِىَ فِى ٱللَّهِ جَعَلَ فِتۡنَةَ ٱلنَّاسِ كَعَذَابِ ٱللَّهِ وَلَٮِٕن جَآءَ نَصۡرٌ۬ مِّن رَّبِّكَ لَيَقُولُنَّ إِنَّا ڪُنَّا مَعَكُمۡ‌ۚ أَوَلَيۡسَ ٱللَّهُ بِأَعۡلَمَ بِمَا فِى صُدُورِ ٱلۡعَـٰلَمِينَ (١٠) وَلَيَعۡلَمَنَّ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَيَعۡلَمَنَّ ٱلۡمُنَـٰفِقِينَ (١١) وَقَالَ ٱلَّذِينَ ڪَفَرُواْ لِلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّبِعُواْ سَبِيلَنَا وَلۡنَحۡمِلۡ خَطَـٰيَـٰكُمۡ وَمَا هُم بِحَـٰمِلِينَ مِنۡ خَطَـٰيَـٰهُم مِّن شَىۡءٍ‌ۖ إِنَّهُمۡ لَكَـٰذِبُونَ (١٢) وَلَيَحۡمِلُنَّ أَثۡقَالَهُمۡ وَأَثۡقَالاً۬ مَّعَ أَثۡقَالِهِمۡ‌ۖ وَلَيُسۡـَٔلُنَّ يَوۡمَ ٱلۡقِيَـٰمَةِ عَمَّا ڪَانُواْ يَفۡتَرُونَ (١٣) অর্থ : ১) আলীফ - লাম - মীম ২) মানুষেরা কি এটা মনে করে নিয়েছে যে আমি ঈমান এনেছি এটুকু বললেই তারা ছাড়া পেয়ে যাবে এবং তাদের এই ঈমানের দাবীতে এরপর আর কোন পরীক্ষা করা হবে না। ৩) আমি তো সেসব লোকদেরও পরীক্ষা করেছি যারা এদের আগে এভাবেই ঈমানের দাবী করেছিল, আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা (ঈমানের দাবীতে) সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী। ৪) আর যারা গুনাহের কাজ করছে তারা কি মনে করে নিয়েছে যে তারা (বুদ্ধির প্রতিযোগিতা) আমার থেকে আগে চলে যাবে। বড়ই ভুল সিদ্ধান্ত তারা (আমার সম্পর্কে) করছে। ৫) যে কেউ এই আশা করে যে তাকে (বিচারের জন্য একদিন) আল্লাহর সামনাসামনি হতে হবে, (তার জানা উচিত) আল্লাহর নির্ধারিত (সেই সাক্ষাতের সময়) অবশ্যই আসবে। আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন। ৬) যে ব্যক্তিই (আল্লাহর পথে) কষ্ট - সংগ্রাম করে, সে তো আসলে তা করে তার নিজের (কল্যানের) জন্যই। কেননা আল্লাহ সমগ্র বিশ্বজগত থেকে মুক্ত। ৭) যারা ঈমান আনবে (সে মোতাবেক) নেক কাজ করবে আমি অবশ্যই তাদের দোষত্রটি গুলো দুর করে দেব এবং তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম কাজগুলির প্রতিদান দেব। ৮) আমি মানুষকে তাদের পিতামাতার সাথে সৎ ব্যবহার করা আদেশ দিয়েছি (সাথে তাদের একথাও বুঝেয়ি দেয়েছি যে) যদি তারা তোমাকে আমার সাথে কাউকে শরীক করার ব্যাপারে জবরদস্তি করে যে ব্যাপারে তোমার কাছে কোন রকম দলিল প্রমাণ নেই, তাহলে (এ ব্যাপারে) তাদের আনুগত্য করোনা। কেননা (হিসাব কিতাবের জন্য তো) তোমাদের আমার কাছে শেষতক ফিরে আসতে হবে, তখন আমি তোমাদের (এক এক করে) বলে দেব তোমরা (দুনিয়ায় কে কোথায়) কি করতে। ৯) যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করে আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করে নেব। ১০)মানুষের মাঝে এমনও আছে যারা (মুখে) বলে আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। কিন্তু যখন তাকে আল্লাহর পথে কষ্ট দেয়া হয় তখন তারা মানুষের এই পীড়নকে আল্লাহর আযাবের মতো মনে করে নিয়েছে। আবার যখন তোমার রবের পক্ষ থেকে বিজয় ও সাহায্য এসে যায় তখন তারা বলতে থাকে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে ছিলাম। বিশ্ববাসীদের মনের অবস্থা কি আল্লাহ ভালোভাবে জানেননা? ১১)আল্লাহ অবশ্যই ভালো করে জেনে নেবেন কারা ঈমান এনেছে এবং কারা মুনাফিক। ১২)কাফেররা ঈমানদারদেরকে বলে তোমরা আমাদের পথ ধরো, তাহলে আমরা তোমাদের গুনাহসমূহের বোঝা তুলে নেব। (অথচ) তারা (সেদিন) নিজেদের গুনাহের বিপুল পরিমান বোঝাই উঠাতে পারবেনা (আবার তোমাদের গুনাহের বোঝা উঠাবে কি করে?) এরা হলো (মূলত নির্জলা) মিথ্যাবাদী। ১৩)(সত্য ঘটনা হচ্ছে) সেদিন এরা তাদের নিজেদের গুনাহের বোঝা তো উঠাবেই (তারপর) তাদের এই বোঝার সাথে থাকবে তোমাদের বোঝাও। আর তারা যে মিথ্যাচার চালিয়ে এসেছে সে ব্যাপারে যেদিন অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ঈমানের মানদণ্ড

সূরা আত-তাওবা আয়াত নং- ২৩, ২৪

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ـ قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ ـ উৎসঃ সূরা আত-তাওবা, يَا أَيُّهَا - ওহে, الَّذِينَ - যারা, آمَنُوا - ঈমান এনেছ, لَا - না, تَتَّخِذُوا - তোমরা গ্রহণ করো, آبَاءَكُمْ - তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে, َإِخْوَانَكُمْ- তোমাদের ভাইদেরকে, أَوْلِيَاءَ - অভিভাবরূপে, إِنِ - যদি, اسْتَحَبُّوا - তারা ভালবাসে, الْكُفْرَ - কুফরীকে, عَلَى الْإِيمَانِ- ঈমানের পরিবর্তে, وَ- এবং, مَن- যে, يَتَوَلَّهُم - তাদেরকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করবে, مِّنكُمْ - তোমাদের মধ্য হতে, فَأُولَٰئِكَ - তবে ঐসব লোক, الظَّالِمُونَ - যালেম, قُلْ - বল إِن - যদি, كَانَ - হয়, آبَاؤُكُمْ - তোমাদের বাপ-দাদারা, وَأَبْنَاؤُكُمْ - তোমাদের সন্তানরা, وَإِخْوَانُكُمْ - তোমাদের ভাইয়েরা, وَأَزْوَاجُكُمْ - তোমাদের স্ত্রীরা, وَعَشِيرَتُكُمْ - তোমাদের স্বজনগোষ্ঠী, أَمْوَالٌ- মালসম্পদ, اقْتَرَفْتُمُوهَا - যা তোমরা অর্জন করেছ, تِجَارَةٌ - ব্যবসা, تَخْشَوْنَ - তোমরা ভয় কর, كَسَادَهَا - যারা মন্দা পড়ার, مَسَاكِنُ - বাসস্থানসমূহ, تَرْضَوْنَهَا - যা তোমরা পছন্দ কর, أَحَبَّ - অধিক প্রিয়,جِهَادٍ- জিহাদ, سَبِيلِه- রাস্তা বা পথ, فَتَرَبَّصُوا -তবে তোমরা অপেক্ষা কর, حَتَّىٰ- যতক্ষণ না, يَأْتِيَ - নিয়ে আসেন, بِأَمْرِهِ - তাঁর নির্দেশকে, সিদ্ধান্ত, لَا - না, يَهْدِي - পথ দেখান, الْقَوْمَ - জাতিকে, الْفَاسِقِينَ - যারা সত্যত্যাগী। নামকরণ: এ সূরা দুইটি নামে পরিচিতি। প্রথম নাম আত-তাওবা আর দ্বিতীয় নাম বারায়াত। এ সূরার এক স্থানে কোন কোন ঈমানদার লোকদের দ্বিতীয় গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর বারায়াত অর্থ সম্পর্কচ্ছেদ। মুশরিকদের সাথে সম্পর্কছেদের ঘোষণা এ সূরার শুরুতেই করা হয়েছে। সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ না লেখার কারণ: এ সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম না লেখার বিভিন্ন কারণ তাফসীরকারগণ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ঈমাম রাযী (র) যে কারণটি উল্লেখ করেছেন তাই সঠিক বলে মনে হয়। তাহলে নবী করীম (সা) নিজেই এ সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লেকাননি। এ কারণে সাহাবায়ে কিরামও তা লেখেননি। পরবর্তী কালের লোকেরাও একই নীতি অনুসরণ করেছেন। কুরআন মজীদকে নবী করীম (সা) থেকে যথাযথভাবে গ্রহণ ও পূর্ণমাত্রায় সংরক্ষিত রাখার ব্যাপারে যে কতদূর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, এটা তার অন্যতম প্রমাণ। নাযিল হওয়ার সময়কাল ও সূরার বিভিন্ন অংশ: সূরাটি তিনটি ভাষণে শেষ হয়েছে। প্রথম ভাষণটি সূরার শুরু থেকে ৫ম রুকূর শেষ পর্যন্ত। তা নাযিল হওয়ার সময় হচ্ছে নবম হিজরীর যিলকাদ মাসের নিকটবর্তী কোন সময়। নবী করীম (সা) এ বছর হযরত আবু বকর (রা) কে আমীরুল হজ্জ (হজ্জের অনুষ্ঠান